জেলা প্রতিনিধি,জাতীয়বাণী.কম
বরিশাল : রাজধানী থেকে বরিশালগামী বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-১০ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু শনিবার সদরঘাট টার্মিনালে এই অত্যাধুনিক বিলাসবহুল লঞ্চটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আমির হোসেন আমু সেবার মনোভাব নিয়ে নতুন নতুন যাত্রীবাহী লঞ্চ নির্মাণ করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, তালুকদার মোহম্মদ ইউনুস এমপি, সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু প্রমুখ।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, লঞ্চটি আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা বরিশালে স্থানীয়ভাবে নির্মিত হয়েছে। এটি ৩০০ ফুট লম্বা এবং ৫০ ফুট প্রশস্ত। এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৪০০ জন। লঞ্চটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক সুবিধাসহ কেবিন ও সুপরিসর ডেপ। লঞ্চটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। এতে রয়েছে শিশুদের জন্য বিনোদন স্পেস, ফুডকোর্ট, ফার্মেসী, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত লাইফ বয়া ও জ্যাকেট এবং ফ্রি ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা। ফলে যাত্রীরা লঞ্চটিতে সাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, সাড়ে তিন তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশে এই প্রথম ক্যাপসুল লিফ্ট কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চে সংযোজন করা হলো। লঞ্চটিতে রয়েছে আধুনিক জিপিএস সিন্টেম। এর ফলে লঞ্চ চলাচলকালীন ক্যাপ্টেন পানির ভেতরে সব কিছু দেখে লঞ্চটি নিরাপদ গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারবেন। লঞ্চটি হাইড্রলিক পদ্ধতিতে চলবে এবং এর রাডার ব্যবস্থা কুয়াশার মধ্যেও লঞ্চটিকে নিরাপদে চলতে সাহায্য করবে।

অনেক যাত্রী এই লঞ্চটির নাম দিয়েছে বাংলার টাইটনিক উল্লেখ করে শাহজাহান খান বলেন, নৌ পরিবহন সেক্টরে আজ এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। এ সেক্টরটি অবহেলিত ছিল।

শাজাহান খান বলেন, বিএনপির আমলে তারেক জিয়া কোকো লঞ্চকে চারতলা করেছিলেন। যার অনুমোদন ছিলনা।

তিনি বলেন, আমরা ২০১৫-২০১৬ সালে দুর্ঘটনা হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি। চারদলীয় জোটের আমলে সব চেয়ে বেশী নৌ দুর্ঘটনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জাহাজ নির্মাণ নিয়ম পরিবর্তন করেছি। ডিজাইন পরিবর্তন করেছি। লঞ্চ, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছি।