স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, সাঁড়াশি অভিযানের নিরীহ সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে শুক্রবার খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ একটা আবদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটের অধিকার, রাজনীতির অধিকারের পাশাপাশি এখন মানুষের ধর্ম পালনের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে কিছু দিন যাবৎ রহস্যজনকভাবে গুপ্তহত্যা শুরু হয়েছে। একদিকে যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না তাদের উপর আক্রমণ হচ্ছে অন্যদিকে যারা ধর্মে বিশ্বাসী যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান ধর্মাবলীদেরও হত্যা করা হচ্ছে। সরকার এ হত্যা বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

দেশে সম্প্রতি গুপ্তহত্যা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ আজ শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে।

দেশজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পর বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশ’ ব্যক্তিকে আটকের খবর এসেছে, যাদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরাও রয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতর বলছে, শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামী সাত দিন চলবে।

চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী খুন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই ‘সাঁড়াশি অভিযান’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সাঁড়াশি অভিযানের বিষয়ে বিএনপি নেতা ফখরুল বলেন, ‘এসব অপরাধের নামে যাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদেরকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হচ্ছে। গত ৩ দিনে অন্তত ৯ জনকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে ইসলামী উগ্রপন্থিরা ব্লগার-নাস্তিকদের হত্যা করছে। কিন্তু, আমার প্রশ্ন তাহলে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষদের কারা হত্যা করছে? পরিস্থিতি এমন যে দেশে এখন কোনো ধর্মেও মানুষই নিরাপদ নয়।’

স্বাগত বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘জালিম শাসকদের সামনে হক কথা বলা হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিহাদ। আজকে হামলা-মামলা আর নির্যাতনের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এই রমজান মাসেও ঘরে থাকতে পারছে না। আজকে রোজাকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা’র সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি’র চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল’র সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপি’র চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি এডভোকেট মো. আজহারুল ইসলাম, জাগপা সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল করিম, যুগ্ম মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সদস্যসচিব মাওলানা ফজলুল করিম, ডেমোক্রেটিক লীগ- ডিএল’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমদ মনিসহ আরও অনেকে।