অর্থনীতি ডেস্ক : সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ? উচ্চাভিলাসকে দিবাস্বপ্ন বলছেন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীরা। এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে সেবাহীন করের বোঝা বাড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায় লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবতা নিয়েও সন্দিহান তারা। ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনও অসম্ভব বলে মনে করছেন। সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সমালোচনা করে তাই বলছেন, তিনি একদিকে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গান গাইছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করছেন। গ্রামীণ ও কৃষি খাতে বরাদ্দ কমিয়ে মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে আত্মঘাতী কাজ করছেন।

ছোট পদের চাকরিজীবীদের কেন টিআইএন নিতে হবে প্রশ্ন তুলে তারা বলছেন, এটা অযৌক্তিক, অবাস্তব, হঠকারী। তাই বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা উচিত। এটা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। তবে ১৬ হাজার টাকা স্কেল বা এর বেশি বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করলে সরকারি চাকুরেদের মধ্যে জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু হবে।
তবে যাদের টিআইএন আছে তাদের রিটার্ন জমা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেন তারা।

পেশাজীবীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের ঘাড়েই করের বোঝাটা বেশি চাপানো হয়েছে। এত ধনীরা আরো ধনী, গরিবরা আরো গরীব হবে। এটাকে জাতীয় বাজেট না বলে বাৎসরিক অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের দলিল বলাই ভালো। আমাদের উচিত ধীরে ধীরে এনবিআর-নির্ভর বাজেট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা। শুধু জনসাধারণের ওপর কর না বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর অন্য উপায় খোঁজা।

বাজেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব বাড়াতে মোবাইল ফোনের সেবার ওপর কর বসানো হয়েছে। অথচ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পড়ে থাক লাখো কোটি টাক?া তোলার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।