রামগঞ্জ সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খাঁন ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ধানেরশীষের এলডিপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম।
ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ থেকে আনোয়ার খাঁন মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হসপিটালের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খাঁন ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে কেন্দ্রীয় এলডিপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করেছেন উভয় দল।
সূত্রে জানায়, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী ও সদস্য আনোয়ার খানকে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকালে দলটির ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নেন তারা।
তরিকত ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ তৈয়বুল বাশার মাইজমান্ডারী সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে তারা দুটি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতার সুযোগ পাচ্ছেন।
“চট্টগ্রাম-২ এ আমার বাবা সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী এবং লক্ষ্মীপুর- ১ আসনে তরিকত ফেডারেশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খানকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”
২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে সাংসদ হন তরিকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল। সম্প্রতি বির্তকিত কর্মকান্ডের কারনে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী।
তরিকতের হয়েই তার আসনে এবার প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. আনোয়ার হোসেন খান। রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আনোয়ার ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান।
১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক পেয়েছি। আশা করি, নির্বাচিত হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারব।”
এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খাঁনের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খন্ড খন্ড আনন্দ মিছিল বের করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। দলের নেতাকর্মীরা মিষ্টি মুখ করে সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া জানান।
এদিকে বিএনপি অধ্যূষিত রামগঞ্জ আসনে দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙ্গে ধানেরশীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় এলডিপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে।
চট্টগ্রাম ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, চট্টগ্রাম বন্দর থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিম দীর্ঘদিন যাবত কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে নীতিগত দ্বন্ধের কারনে বিএনপি থেকে বের হয়ে তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী অলি আহম্মেদকে নিয়ে লিভারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করে।
এলডিপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব থাকলেও পরে বিশদলীয় জোটের সাথে একত্র হয়ে তিনি জোটের সিনিয়র নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকেন।
এদিকে ২০০৯ইং সনের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহম্মেদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি ধানেরশীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও তিনবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় সাংসদ মরহুম জিয়াউল হক জিয়ার অনুসারী আখ্যা দিয়ে দলের বেশ কয়েকজন ত্যাগি ও সিনিয়র নেতাকে বহিস্কার করেন।
এতে দলে তীব্র দ্বন্ধ দেখা দেয়। দলীয় কোন্দল ও দলের ত্যাগি নেতাদের দীর্ঘদিন দলের বাহিরে রেখে বিতর্কিত লোকজন দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপি ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি করায় দলের বিশাল একটি অংশ নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ক্ষমতা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতির চেয়ার আগলে রাখতে দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
নাজিম উদ্দিনের আহম্মেদের এহেন কর্মকান্ডে বিভ্রত হয় জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এসব ঘটনার সত্যতা ও ধারাবাহিকতায় দলটির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকগণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ নাজিম উদ্দিন ধানেরশীষের মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও তাকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় এলডিপির নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
তবে যুবদলের জনৈক নেতা জানান, দীর্ঘদিন পর্যন্ত দলটির হাল ধরে রেখেছেন বিএনপি নেতারা। আর সেখানে দেয়া হলো এলডিপির নেতাকে? তারপরও বেগম জিয়ার মুক্তির লক্ষে আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে নির্বাচন করবো।
উপজেলা বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপির বিরুদ্ধে ১৯৯৬ইং সনের নির্বাচনে আম প্রতীকে নির্বাচন করে দলের ৮জন কর্মীকে হত্যাসহ বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধীতা করে উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ। সে লোক (নাজিম উদ্দীন আহম্মেদ) যদি পরবর্তিতে ধানেরশীষের টিকিট পেয়ে এমপি হতে পারেন। তাহলে ঘরের ছেলে শাহাদাত হোসেন সেলিমকে মনোনয়ন দেয়া দোষের কিছু না।