বাংলাদেশের ৫৩ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সীমাবদ্ধতাই হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব। জাতিসংঘের অধীনস্থ বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইউএনসিটিএডি) প্রতিবেদন ‘লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) রিপোর্ট-২০১৭’-এ এমন তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউএনসিটিএডির পক্ষে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

এলডিসির প্রতিবেদনটি নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। প্রতিবেদনটির এবারের সংস্করণের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘ট্রান্সফর্মেশনাল এনার্জি অ্যাকসেস’ বা রূপান্তরমূলক জ্বালানি প্রাপ্যতা। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সুবিধার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ৪২ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের প্রধান সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্র হলো বিদ্যুৎ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ হার ৫২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেপাল ও ভুটান। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে এলডিসিগুলোকে প্রতি বছর সাড়ে তিনগুণ হারে বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

ইউএনসিটিএডি বিদ্যুৎ প্রাপ্যতার লক্ষ্য অর্জনে এলডিসিগুলোর জন্য চারটি সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো— শক্তিশালী বিদ্যুৎ কাঠামো ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সুশাসন ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা, উন্নয়নের কৌশল হিসেবে জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া ও আন্তর্জাতিক সহায়তা নেয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ৫১ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে। বাকি ৪৯ শতাংশের বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা নেই। আবার শহুরে জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশের বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা রয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের ৬০ শতাংশ অঞ্চল বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা এশিয়ার নয়টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।