আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বংশ পরম্পরার রাজনীতির কারণে ভারতের লোকসভা ও কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। বাবা কিংবা ভাই অনেক দিনের রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, দলের প্রভাবশালী নেতা; সে কারণে যথাক্রমে ছেলে বা ভাইকে ভোটে কংগ্রেসের টিকিট দেওয়া হয়েছে। তারপর তাদের জিতিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে, ভোটাররা এটা মেনে নিতে পারেননি।

বংশ পরম্পরার রাজনীতির কারণেই ভোটাররা কংগ্রেসের ওপর আগ্রহ হারিয়েছে। লোকসভা ও কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম প্রধান কারণ সেটাই।

নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল কংগ্রেস, সেই কমিটি এই রিপোর্ট দিয়েছে। শিগগিরই বিধানসভা ভোট হতে চলেছে দু’টি রাজ্য মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায়। তার জন্য কংগ্রেসের তোড়জোড়, প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে জোর কদম‌ে।

কংগ্রেসের তথ্য অনুসন্ধান কমিটি জানিয়েছে, এসবের থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার প্রার্থী বাছাই করতে হবে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে। আগামী মাসে যে কয়েকটি উপনির্বাচন রয়েছে, সেখানেও এই শিক্ষাকে মনে রাখতে হবে।

চার মাস আগে লোকসভা ভোটে কর্নাটকে পর্যুদস্ত হতে হয়েছিল কংগ্রেসকে। রাজ্যের ২৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ের মুখ দেখেছে কংগ্রেস। এক বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনে কর্নাটকে ধরাশায়ী হয়েছিল কংগ্রেস।

কংগ্রেসের তথ্য অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট বলছে, ২০১৮ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকায় এমন বহু নাম ছিল, যারা বিধায়ক বা সাংসদদের ছেলে-মেয়ে বা তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ছেলে যতীন্দ্র তার বাবার নির্বাচন কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্দারামাইয়া যে দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তার একটিতে হেরে গিয়েছিলেন।

সাবেক মন্ত্রী টি বি জয়চন্দ্র ও তার ছেলে দু’জনেই ধরাশায়ী হয়েছিলেন। মে মাসে লোকসভা ভোটে হেরে গিয়েছিলেন সাবেক সাংসদ মল্লিকার্জুন খড়গে। যদিও তার ছেলে প্রিয়ঙ্ক গত বছর কর্নাটকে বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে।

কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও স্বীকার করেছেন, কারো আত্মীয় হওয়ার বিষয়টি যদি দলের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান যোগ্যতা হয়, তাহলে সেটা ভোটাররা মেনে নিতে চাইছেন না।

তিনি আরো জানিয়েছেন, লোকসভা ভোটে দলের পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে যখন কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাহুল গান্ধী, তখন কর্নাটকে দলের প্রায় ৯৯ শতাংশ কর্মী, নেতাই তার কাছে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।