দেশে সবচেয়ে বেশি বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট (ইটিপি) রয়েছে নরসিংদীতে। এখানকার শিল্প মালিকরা ইটিপি বন্ধ রাখায় নিষ্ক্রিয় ইটিপির সংখ্যাও এ জেলায়ই বেশি। ফলে পরিশোধন ছাড়াই শিল্পবর্জ্য সরাসরি মিশছে জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া ও পাহাড়িয়া নদীতে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীসহ ঢাকার চারপাশে নদ-নদীগুলোর দূষণ রোধ ও নাব্যতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত ‘টাস্কফোর্স’-এর ৩৬তম বৈঠকে আলোচনায় গতকাল এসব বিষয় উঠে আসে। দূষণ বন্ধে সবসময় ইটিপি চালু রাখার বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী ও টাস্কফোর্সের সভাপতি শাজাহান খান। ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুস সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

বৈঠকে নদীদূষণের বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান শাহীন বলেন, নরসিংদীর ব্যবসায়ীদের নিয়ে এরই মধ্যে সভা হয়েছে। শুরুতে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে। ইটিপি চালু না রাখলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে তাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতের বেলায়ও ইটিপি চালু রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন তারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, শিল্পবর্জ্য ইটিপির মাধ্যমে পরিশোধনের পর তা নদীতে ফেলার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। নরসিংদীর বড় শিল্প-কারখানার বর্জ্যও সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ইটিপি বন্ধ করে রাতে কারখানা চালু রাখছেন।

আলোচনা শেষে বেশকিছু সিদ্ধান্তও হয় বৈঠকেঃ

  • ঢাকা ওয়াসার ১৩টি খাল উদ্ধার ও যেসব খাল এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো খনন এবং খালের উভয় পাড়ের পাকা অংশ যাতে ফের দখল ও ভরাট হয়ে না যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয় বৈঠকে। এ কাজে সংস্থাটিকে সহযোগিতা করবে টাস্কফোর্স।
  • নদীর সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে জরিপকাজ এবং সীমানা পিলার স্থাপন ও স্থাপিত পিলারগুলোর মধ্যে যেগুলো নিয়ে আপত্তি আছে, সেগুলো যাচাই করে পুনঃস্থাপনের কাজ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় টাস্কফোর্স।
  • সিদ্ধান্ত হয় নদীর তীরভূমির দখলমুক্ত জায়গা সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী সীমানা পিলার স্থাপনের। পিলার উচ্ছেদকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও হয় বৈঠকে।
  • পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ জরিপকাজ শেষে আদি বুড়িগঙ্গার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় টাস্কফোর্স।