দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে উইন্ডিজকে ৬৪ রানে হারায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বল হাতে আলো কেড়েছিলেন নাঈম হাসান। মাত্র ১৭ বছর ৩৫৫ দিন বয়সে অভিষেক ইনিংসে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে গড়েছিলেন বিশ্বরেকর্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের নাকাল করেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম টেস্টে বল হাতে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক এই দুই স্পিনার।

ওই ম্যাচে কিছুটা অনুজ্জ্বলই ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে পেয়েছিলেন মাত্র তিন উইকেট। নাঈমের অভিষেক ম্যাচে এমন সাদামাটা পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা হতাশই ছিলেন এই তরুণ অফস্পিনার। তবে টেস্ট শেষ হতেই মিরাজ পান দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের ফোন। ওই ফোন কলে তামিম কিছু অনুপ্রেরণাদায়ী কথাই বললেন মিরাজকে। আর তাতেই দ্বিতীয় টেস্টে ঘূর্ণি বিষে বিবশ করে দিলেন উইন্ডিজকে।

মিরপুর টেস্টে উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মিরাজ নিয়েছেন সাতটি উইকেট, আর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। প্রথম ইনিংস শেষে মিরাজের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় এমন ১৬-১-৫৮-৭। মিরাজের এই বোলিং ফিগার বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা। সবমিলিয়ে ১১৭ রানে ১২ উইকেট বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও।

ফোনে মিরাজকে কী এমন বলেছিলেন তামিম? ঢাকা টেস্ট জয়ের পর সেই রহস্য ফাঁস করলেন মিরাজ নিজেই।

এ নিয়ে মিরাজের ভাষ্য, ‘চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ হওয়ার পর তামিম ভাই আমাকে ফোন করে বলেন, ‘মিরাজ তুই কী ধরনের বোলার আমরা জানি। এই টেস্টে ভালো বোলিং হয়নি, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নাঈম ভালো করেছে, তুই খুশি থাক। কপালে থাকলে তুইও উইকেট পাবি। যদি বেশি চিন্তা করিস, নাঈম ভালো বোলিং করছে, তুই করিসনি, তাহলে কখনো ভালো করতে পারবি না, ভালো বোলার হতে পারবি না। তুই প্রমাণিত বোলার। সব জায়গায় ভালো করেছিস, তোর ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে।’

দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজকে গুটিয়ে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয়ের আনন্দে ভাসার সময় মিরাজ ছুটে গিয়েছিলেন তামিমের কাছে। সে সময় তামিমের সঙ্গে হাতও মেলান এই তরুণ অফস্পিনার।

এ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ওই রাতে তামিম ভাই আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। তার এই সমর্থন আমার কাছে স্পেশাল। ম্যাচের পর দেখেছেন আমি তামিম ভাইয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসেছি।’

ভাগ্যিস তামিম সেদিন ফোন দিয়েছিলেন মিরাজকে!