নিউজ ডেস্ক ::
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মধ্যে সংযোগ করা এবং সারা বছর চলাচলের উপযোগী ‘অল অয়েদার রোড’ (আবুরা বা উঁচু রাস্তা) নির্মাণ করায় হাওরবাসী যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিস্তর সুবিধা পাবে।

আগামী বছরই এ রাস্তার কাজ শেষ হবে। তখন মিঠামইন থেকে ইটনা ও অষ্টগ্রামে যেতে মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগবে। এ বক্তব্য প্রদানের পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর জীবন থাকতে তিনি হাওরের পরিবেশ নষ্ট হতে দেবেন না।

বক্তৃতায় তিনি জানান, তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় নির্মিত নিকলী বেড়িবাঁধ, অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর রোডের উঁচু ব্রিজ ও করিমগঞ্জের বালিখোলা রোড দেখতে বিশেষ করে বর্ষাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছে। আবুরা সড়কটি নির্মিত হলে হাওরেও পর্যটক বাড়বে। তখন হোটেল-মোটেল হবে। এক সময় ঢাকার বড়লোকেরা বিভিন্ন মিল-কারখানা করতে হাওরে জমি কিনতে আসবে। তাঁর মতে, স্থানীয় লোকজন জমি কিনলে আপত্তি নাই। কিন্তু বাইরের লোকজন যেন জমি কিনে হাওরের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেদিকটায় খেয়াল রাখারও পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। তারপরই তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবন থাকতে হাওরের পরিবেশ নষ্ট হতে দেব না’।

আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকালে মিঠামইন সদরে রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত মৃক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজ চত্বরে এক সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। তাঁর ছোট বোন মিঠামইন নাগরিক কমিটির আহবায়ক ও মিঠামইন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আছিয়া আলমের সভাপতিত্বে সভায় রাষ্ট্রপতির ছেলে ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক বক্তব্য দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক নূরুসহ এলাকার সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তৃতায় হাওরের পরিবেশ রক্ষায় হাওরের মাঝমাঝি স্থানে বাড়িঘর না করারও পরামর্শ দেন। হাওর রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়িঘর করতে হলে আইন মেনে জেলা ও উপজেলার প্রশাসনের নির্দেশনামতেই করতে হবে। এলাকাকে সুন্দর রাখার চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। হাওরের মাঝখানে কোনো স্থাপনা হলে হাওরের গুরুত্ব থাকবে না। তখন আর কেউ হাওর দেখতে আসবে না’।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তৃতায় আরো বলেন, ‘মিঠামইনে মিনি সার্কিট হাউজ ও শিল্পকলা একাডেমী নির্মাণ করা হবে’। হাওরে ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণের তথ্য দিয়ে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ‘ক্যান্টমেন্টের জমি যেন ফেলে রাখা না হয়’ সেদিকে খেয়াল রাখার আহবান জানান রাষ্ট্রপতি।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে যেমন নরম সুরে কথা বলতেন, নির্বাচনের পরও সেভাবে ভালো ব্যবহার করতে হবে। ভালো ব্যবহার করতে তো আর পয়সা খরচ হয় না!’ নেতাদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘ভাব ধরবেন না। নেতাদের ভাবসাব কমিয়ে দেওয়া উচিত। কাউকে ঠকানো যাবে না, আকাম-কুকাম করা যাবে না’। প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি হাওরে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিলেও কৃষকদের কাঙ্খিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বা কৃষকশ্রেণীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু বলেননি।

রাষ্ট্রপতি কাল (শনিবার) মিঠামইনে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করবেন। এরপর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কর্মমুখী ১৫ জন নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ থেকে এ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।