ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে চালের দাম বাড়াচ্ছেন আমদানিকারকরা। স্থলবন্দরগুলোয় আমদানি করা চালের দাম এরই মধ্যে কেজিতে ১ টাকা বেড়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছেন মিল মালিকরাও। একই হারে দাম বাড়িয়েছেন তারাও। যদিও পাইকারি ও ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে আরো বেশি কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত।

ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানি হয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। দুদিনের ব্যবধানে বন্দরটিতে আমদানি করা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১ টাকা।

দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন আমদানিকারকরা। পাশাপাশি ভারতে পণ্যটির রফতানি মূল্য বেড়ে যাওয়াকেও এর কারণ হিসেবে দাবি করছেন তারা।

আমদানি চালের পাশাপাশি বেড়েছে স্থানীয় মিলে উৎপাদিত চালের দামও। গতকাল মিল পর্যায়ে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয় মানভেদে ৫৪-৫৭ টাকায়। দুদিন আগেও একই চাল মিলাররা বিক্রি করেছিলেন ৫৩-৫৫ টাকায়। এছাড়া বিআর-২৮ চাল মিল গেটে দুদিন আগেও প্রতি কেজি ৪৩-৪৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। একই চাল গতকাল তারা বিক্রি করেন ৪৪-৪৫ টাকা কেজি দরে।

পাইকারি পর্যায়েও দুদিনের ব্যবধানে চালের দাম ২-৩ টাকা বেড়েছে। পুরান ঢাকার বাদামতলী ও বাবুবাজারে দুদিন আগে প্রতি কেজি দেশী মিনিকেট চালের দাম ছিল ৫৪-৫৫ টাকা। বর্তমানে তা ৫৫-৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি স্বর্ণা চালের দাম রাজধানীর পাইকারি বাজারে ৩৮-৩৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৯-৪১ টাকা। একইভাবে বেড়েছে অন্যান্য চালের দামও।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেন আড়তদাররা। বাবুবাজারের মেসার্স তাসলিমা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আবদুর রহিম বলেন, মিল মালিকরা হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। মিল গেটে যতটুকু বৃদ্ধি পাবে, তারাও একই হারে দাম বাড়াতে বাধ্য হবেন।

বোরো মৌসুমে পর্যাপ্ত চাল সংগ্রহ করতে না পারা ও সরকারের মজুদ কমে যাওয়ার পুরো সুযোগ নিয়েছেন মিলার-ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার চাল আমদানিতে নানা সুবিধা দেয়ার পর দেশের বাজারে পণ্যটির দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আবারো চালের দাম বাড়াচ্ছেন আমদানিকারকরা। তাদের পাশাপাশি দাম বাড়াচ্ছেন মিলার, পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীরাও।