যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসায়িক সাময়িকী ফোর্বস গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে। ফোর্বসের এবারের তালিকায় গত বছরের চেয়ে চারধাপ এগিয়ে ২৬তম অবস্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের চার নারী নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। এই চার নারীর মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সম্প্রতিই হলিউড গায়ক নিক জোনাসকে বিয়ে করেছেন এই অভিনেত্রী।

এ ছাড়া ভারতীয় ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে তালিকায় আরও রয়েছেন, এইচসিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোশনি নাদর মালহোত্রা, এইচটি’র চেয়ারপারসন শোভনা ভারতিয়া ও বায়োকনের প্রতিষ্ঠাতা কিরণ মজুমদার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

২০০০ সালের মিস ওয়ার্ল্ড, বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা, হলিউডের কোয়ান্টিকো সিরিয়াল দিয়ে অভিষেক এবং ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস পার্পল পেবল পিকচার্সের মালিক। এর পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞাপন যেমন প্যানটিন এবং জিএপির প্রচারের মুখ তিনিই। প্রিয়াঙ্কার মোট সম্পত্তি ২০০ কোটি রুপি।

রোশনি নাদর মালহোত্রা

এইচসিএলের প্রতিষ্ঠাতা শিভ নাদরের কন্যা হলেন রোশনি নাদার মালহোত্রা। এইচসিএল একটি মাল্টিন্যাশনাল প্রযুক্তি কোম্পানি, যার হেডকোয়ার্টার উত্তর প্রদেশের নয়ডাতে। এইচসিএলের অফিস বিশ্বের ৩৯টি দেশে ছড়িয়ে আছে। ২০১৮ সালে এইচসিএলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

শোভনা ভরতিয়া

শোভনা ভরতিয়া হিন্দুস্তান টাইমস গ্রুপের চেয়ারপারসন এবং সম্পাদকীয় পরিচালক। তিনি ভারতের জাতীয় সংবাদপত্রের প্রথম নারী চিফ এক্সিকিউটিভ। শোভনা ২০০৫ সালে পদ্মশ্রী খেতাব পান।

কিরণ মজুমদার

কিরণ মজুমদারের বায়োকন প্রতিষ্ঠানটি ভারতের বৃহত্তম বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম। এই কোম্পানির বার্ষিক মোট আয় ৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বসের এবারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তিনি আট বছর ধরে শীর্ষ ক্ষমতাধর নারীর অবস্থানটি ধরে রেখেছেন। তালিকায় থাকা ১০০ ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে ২০ জন রাজনীতিক। তাদের মধ্যে রাজনীতিক হিসেবে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফোর্বসের তালিকায় শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে ৩০তম, ২০১৬ সালে ৩৬তম এবং ২০১৫ সালে ৫৯তম অবস্থানে ছিলেন।

শেখ হাসিনা সম্পর্কে সাময়িকীটি লিখেছে, ২০১৭ সালে তিনি মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় এবং তাদের জন্য দুই হাজার একর জমি বরাদ্দ দেন। তিনি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।