স্পোর্টস ডেস্ক :
ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার এই সিরিজে চলুন সংখ্যায় জেনে নেই সেসব রেকর্ডগুলো।
গত জুলাইয়ে উইন্ডিজ সফরে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ লজ্জাজনকভাবে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এবার ক্যারিবীয়দের সেই লজ্জা ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে আধিপত্য দেখিয়ে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল ৬৪ রানে। আর দ্বিতীয় টেস্টেতো ইতিহাসই গড়েছে স্বাগতিকরা।

উইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে গত জুলাইয়ের সেই লজ্জা ফিরিয়েও দিয়েছে যেন সাকিব আল হাসানের দল। ২-০তে জেতা এই সিরিজে অসংখ্য রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশের।

ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার এই সিরিজে চলুন সংখ্যায় জেনে নেই সেসব রেকর্ডগুলো –

১৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে একবারই প্রতিপক্ষকে ফলোঅনে ফেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে। সেবার অবশ্য জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করায়নি স্বাগতিকরা। ফলে ইনিংস ব্যবধানে জেতার সুযোগও হয়নি।

এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষকে ফলোঅনে ফেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার প্রতিপক্ষ উইন্ডিজ। জিম্বাবুয়েকে না করালেও এবার উইন্ডিজকে ঠিকই ফলোঅন করিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর স্পিন ঘূর্ণিতে নাকাল করে ১৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো এক টেস্টে ১২ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে এই অফস্পিনার নিয়েছেন সাতটি উইকেট, আর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট।

অর্থাৎ দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১১৭ রানে ১২ উইকেট। যা কি-না ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মিরাজ। তার আগে বাংলাদেশের পক্ষে কেবল সাকিব আল হাসান পেরেছেন এ অর্জন ছুঁতে। তবে যেখানে সাকিবের লেগেছিল ১০ বছর, সেখানে মাত্র তিন বছরেই এই কীর্তি গড়েছেন মিরাজ।

প্রথম ইনিংস শেষে মিরাজের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় এমন ১৬-১-৫৮-৭। মিরাজের এই বোলিং ফিগার বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা। দেশের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। জিম্বাবূয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। আর ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নেওয়া সাকিব রয়েছেন এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।

উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে মিরাজ নিয়েছিলেন তিন উইকেট। উঠেছিলেন দেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকার পঞ্চম স্থানে। দ্বিতীয় টেস্টে মিরাজ পান ১২ উইকেট। ১৮ ম্যাচের ৩৪ ইনিংসে ৮৪ উইকেট নিয়ে মিরাজ এবার ওঠে গেলেন তালিকার চার নম্বর স্থানে।

দেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শুরুর চারজনই এখন স্পিনার। ২০৫ উইকেট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে সাকিব আল হাসান। ১০০ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মোহাম্মদ রফিক। তৃতীয় স্থানে থাকা তাইজুল ইসলামের শিকার ৯৪ উইকেট। আর পাঁচ নম্বরে থাকা মাশরাফির উইকেট সংখ্যা ৭৮টি।

দ্বিতীয় টেস্টে দলীয় ২৯ রানের মধ্যে দুই স্পিনার মিলে তুলে নেন ক্যারিবীয়দের পাঁচ উইকেট। এর মধ্যে সাকিব দুটি এবং মিরাজ নেন তিন উইকেট। উইন্ডিজের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তারা। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম পাঁচ উইকেটের সবগুলোই বোল্ড হওয়ার ঘটনা ঘটল এই নিয়ে তৃতীয়বার। তবে বাংলাদেশ গড়েছে অনন্য এক নজির। এবারই প্রথম স্পিনাররা মিলে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবাইকে বোল্ড করার সর্বশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। সেটাও ১৮৯০ সালে। সেবার দ্য ওভালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছিল ইংল্যান্ড। প্রথমবারের মতো প্রথম পাঁচ উইকেটের সবগুলোই বোল্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল তারও ১১ বছর আগে। তবে সেবার ঘটেছিল উল্টো ঘটনা। ১৮৭৯ সালে মেলবোর্নে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠায় অজি বোলাররা।

দুবারই উইকেটগুলো নিয়েছিলেন দুদলের পেসাররা। এবারই প্রথম স্পিনাররা মিলে মিলে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠিয়েছেন।

দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাচ বাঁচাতে একাই লড়াই করা শিমরন হিটমেয়ার তার ৯৩ রানের ইনিংস খেলতে ৯টি ছক্কার মার মেরেছেন। টেস্টে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক ইনিংসে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এর আগে টেস্টে ৩৩৩ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মহাকাব্যিক ইনিংস খেলতে ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ক্রিস গেইল।

১২

উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন সাকিব আল হাসান। এ নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে পাঁচ বার সিরিজ সেরা হলেন সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ১২ বার।

১৯ বার সিরিজ সেরা হয়ে সবার ওপরে আছেন টেন্ডুলকার। সাকিবের ওপরে থাকা বাকি তিন জন হলেন জ্যাক ক্যালিস (১৪), সনাৎ জয়াসুরিয়া (১৩) ও বিরাট কোহলি (১৩)।

এ ছাড়া এখন পর্যন্ত সাদা পোশাকে বাংলাদেশ যে তিনবার প্রতিপক্ষকে (উইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ে-উইন্ডিজ) হোয়াইটওয়াশ করেছে তিনবারই সিরিজ সেরা পুরস্কার উঠেছে সাকিবের হাতে।

১৪

টেস্টে এর আগেও আটবার ৫০০ পেরিয়েছে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ। আছে ৬০০ পেরোনো ইনিংসও। উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নবমবারের মতো পাঁচশ’ পেরোনো ইনিংস পেয়েছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫০৮ রানের বড় সংগ্রহ।

এ নিয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচশ’ রানের দলীয় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে রয়েছে আরেকটি প্রাপ্তি। এই ইনিংসে বাংলাদেশের ১১ ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকে কমপক্ষে দুই অঙ্কের রান ছুঁয়েছেন। অর্থাৎ দশের নিচে আউট হননি কেউই! তাতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের স্কোরকার্ড।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ঘটনা এর আগেও ঘটেছে ১৩ বার। ১৪তম ঘটনায় প্রথমবারের মতো বিরল এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।

১৭

চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৭ বছর ৩৫৫ দিন বয়সে ৯৩তম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সাদা পোশাকে অভিষেক হয় নাঈম হাসানের। অভিষেক ম্যাচেই নাঈম গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড।

সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তরুণ এই অফ স্পিনার। নাঈমের আগে অভিষেক ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেটের রেকর্ডটা ছিল প্যাট কামিন্সের। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৯ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই অজি পেসার। তখন কামিন্সের বয়স ছিল ১৮ বছর ১৯৩ দিন।

বাংলাদেশের হয়ে অষ্টম বোলার হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন নাঈম। এই আট জনের মধ্যে ৫ জনই অফ স্পিনার। নাঈমের আগে নাঈমুর রহমান দূর্জয়, মানজারুল ইসলাম রানা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইলিয়াস সানি, সোহাগ গাজী, তাইজুল ও মিরাজ নিজেদের অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি দেখিয়েছেন।

২৯

দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্কোরকার্ডে ১৬১ রান যোগ করতেই বাংলাদেশ হারায় ৪ উইকেট। মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন সাকিব আল হাসান। যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। মুশফিকের বিদায়ে ভাঙে পঞ্চম উইকেটে তাদের ২৯ রানের জুটি। ২৯ রানের এই জুটিটি দিয়েই রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলটপালট করেছেন সাকিব-মুশফিক।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটি এখন সাকিব-মুশফিক জুটির দখলে। এই কীর্তি গড়ার পথে তারা পেছনে ফেলেছেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস জুটিকে।

৫৮ ইনিংস মিলিয়ে সাকিব-মুশফিক জুটির মোট রান দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৪। তাদের সর্বোচ্চ জুটিটি ৩৫৯ রানের। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটন টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে এই জুটি গড়েছিলেন তারা। তাদের জুটির গড় রান ৪২.৩১। এ ছাড়াও সাকিব ও মুশফিক জুটি সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছে চারবার। তাদের জুটিতে হাফ সেঞ্চুরি এসেছে সব মিলিয়ে ১৬ বার।

৪০

সিরিজের দুই ম্যাচে উইন্ডিজের পুরো ৪০ উইকেটই ভাগাভাগি করেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। এটি বিশ্বরেকর্ড। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আগে কখনোই স্পিনারদের ৪০ উইকেট পেতে দেখা যায়নি। এমন আগের রেকর্ডটিও ছিল বাংলাদেশের। ২০১৬ তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের হোম সিরিজে ৩৮ উইকেট পান বাংলাদেশের স্পিনাররা।

চলতি বছর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে লঙ্কান স্পিনারদের ৩৭ উইকেট শিকারের কীর্তিটি রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে।

৪৪

চলতি বছর সাদা পোশাকে এখন পর্যন্ত তাইজুলের নামের পাশে রয়েছে ৪৪ উইকেট। ২০০৩ সালে মোহাম্মদ রফিক শিকার করেছিলেন ৩৩ উইকেট। এতদিন এটাই ছিল এক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট। ১৫ বছর পর রফিককে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তাইজুল।

২০১৮ সালে টেস্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক কাগিসো রাবাদা। ১৮ ইনিংসে ডানহাতি এই প্রোটিয়া পেসারের নামের পাশে রয়েছে ৪৬ উইকেট। ৪৪ উইকেট নিয়ে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে তাইজুল। ১২ টেস্টে ৪৩ উইকেট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন জেমস অ্যান্ডারসন।

৫৮

ঘরের মাঠে ১০ টেস্টে মিরাজের উইকেট এখন ২০.৬৮ গড়ে ৫৮টি। এর মধ্যে ছয় বার ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন এ অলরাউন্ডার।

১০০

এই সিরিজে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির দেখা পাননি উইন্ডিজের কোনো খেলোয়াড়। আর বল মোকাবিলার ঘটনায় একমাত্র ক্যারিবীয়দের ‘সেঞ্চুরি’ মাত্র একটি।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ বল মোকাবিলা করেন উইন্ডিজের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান শেন ডওরিচ। সিরিজে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৯২ বল খেলেন দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শিমরন হেটমায়ার।

১১১

টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটা সর্বনিম্ন ইনিংসের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বছরের শুরুতে কিংসটনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ১২৯ রানের। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সর্বনিম্ন তিনটি ইনিংসই এসেছে ২০১৮ সালে।

১১২

টেস্ট আঙিনায় দেড় যুগের পথচলায় বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে ১১২টি টেস্ট। তবে বিশেষজ্ঞ পেসার ছাড়া সদ্য শেষ হওয়া উইন্ডিজ সিরিজেই প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ।

বলা যাবে না ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে! তবে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একাধিকবারই ঘটেছে এমন ঘটনা। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম। ইতিহাস বলছে, ভাগবত চন্দ্রশেখর, ই.এ.এস. প্রসন্ন, বিষেন সিং বেদী ও শ্রীনিবাসন ভেঙ্কটরাঘবন এই ৪ স্পিনারকে নিয়ে কোনো পেসার ছাড়াই সুনীল গাভাস্কারের অধিনায়কত্বেও খেলেছে ভারত।

১৯৯

এই টেস্টে অভিষেক হয়েছে সাদমান ইসলাম অনিকের। বাঁহাতি এই ওপেনার অভিষেক ইনিংসে রান করেছেন ৭৬, খেলেছেন ১৯৯ বল। অভিষেক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে এতো বল খেলেননি কোনো অভিষিক্ত ওপেনিং ব্যাটসম্যান।

টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি বল খেলা ওপেনিং ব্যাটসম্যান ছিলেন নাজিমউদ্দিন; ২০১১ সালে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের সাথে ১৮৬ বল খেলে ৭৮ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে অভিষেক টেস্ট হলেও ওই ইনিংসটি ছিল নাজিউদ্দিনের দ্বিতীয় ইনিংস। এই ইনিংস খেলতে সাদমান ২২০ মিনিট টিকে ছিলেন।

২০০

প্রথম টেস্ট মাঠে গড়ানোর আগে সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রে সমীকরণটা ছিল এরকম – চার উইকেট পেলেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য এক উচ্চতায় তুলবেন নিজেকে। চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন কাইরন পাওয়েলকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলার মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার স্বাদ পান ২০০তম টেস্ট উইকেটের।

ক্যারিয়ারের ৫৪তম টেস্টেই ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব। বাংলাদেশের হয়ে সাদা পোশাকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় বেশ এগিয়েই রয়েছেন ৩১ বছর বয়সী সাকিব।

একই সঙ্গে গড়েছেন আরেকটি ইতিহাস। দ্রæততম ক্রিকেটার হিসেবে গড়েছেন তিন হাজার রান ও ২০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। এই কীর্তি গড়ার পথে পেছনে ফেলেছেন স্যার ইয়ান বোথাম, স্যার রিচার্ড হ্যাডলি, স্যার গ্যারি সোবার্স, জ্যাক ক্যালিসদের মতো কিংবদন্তি অলরাউন্ডারদের।

৫৯৬

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে আড়াই দিনেই উইন্ডিজকে হারায় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য উইন্ডিজের সামনে ছিল ২০৪ রানের লক্ষ্য। বাংলাদেশি স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদুতে ১৩৯ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। আর তাতে ৬৪ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

আড়াই দিনে খেলা হয়েছে সাড়ে সাত সেশনের মতো। এর মধ্যে ক্যারিবীয়দের দুবার অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এজন্য স্বাগতিকদের বল করতে হয়েছে মাত্র ৯৯.২ ওভার। অর্থাৎ দুই ইনিংস মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য খরচ করতে হয়েছে ৫৯৬ বল। টেস্ট ইতিহাসে এটাই বাংলাদেশের দ্রæততম জয়।