২০১৭-১৮ করবর্ষের নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আয়কর মেলা, আয়কর সপ্তাহ, আয়কর দিবসের মতো নানামুখী কর্মসূচিও পালন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ার’স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ই-টিআইএন) নিবন্ধন নিয়েছেন ৩২ লাখের বেশি করদাতা। কিন্তু এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ১০ লাখ ৯০ হাজার জন। তবে আজকের মধ্যে আরো চার লাখ রিটার্ন পাওয়া যাবে বলে আশা করছে এনবিআর।

করদাতাদের রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দিতে চলতি বছরের ১ থেকে ৭ নভেম্বর দেশব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করে এনবিআর। আর গত শুক্রবার শুরু হয়েছে আয়কর সপ্তাহ, যা আজ শেষ হবে। সরকারের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, আজ রাত ১০টার মধ্যে করযোগ্য ই টিআইএনধারীদের রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক। সক্ষম করদাতারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ আরোপের বিধান রয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তির আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলেই তাকে আয়কর দিতে হবে। ব্যতিক্রম হিসেবে নারী এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার আয় ৩ লাখ টাকার বেশি, প্রতিবন্ধী করদাতার আয় ৪ লাখ টাকার বেশি, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার আয় ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে স্বাভাবিক নিয়মেই তাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এর বাইরে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে চাকরি করলে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্মীদের বেতনের বিপরীতে ই-টিআইএন প্রদর্শন ছাড়া বেতন ব্যয় গ্রহণ করা হবে না বলেও জানিয়েছে এনবিআর।

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ৩০ নভেম্বরকে কর দিবস হিসেবে পালন করছে এনবিআর। অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে করদাতার আয়-ব্যয়ের সব হিসাব আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। বিশেষ কোনো কারণে করদাতা এ সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে করদাতাকে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনার বরাবর আবেদন করতে হবে। সময় বাড়ানোর আবেদনপত্র মিলবে এনবিআরের ওয়েবসাইটে।